তাঁত শিল্প বিকাশের জন্য সরকার কিছু উপকরণে শুল্ক সুবিধা দিয়ে আমদানির ব্যবস্থা করলেও কিছু দুর্বৃত্ত এ সুবিধার অপব্যবহার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র, পাট ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
রাজধানীর জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারে (জেডিপিসি) গতকাল বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের আওতায় ‘তাঁতিদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে সুতা, রঙ ও রাসায়নিক সরবরাহ সংক্রান্ত প্রচলিত পদ্ধতির সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রউফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র, পাট ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘তাঁত শিল্পের উন্নয়নে সরকারের আন্তরিক সদিচ্ছাকে এ খাতের কিছু দুর্বৃত্ত অপব্যবহার করেছে। এতে ধনী আরো ধনী, গরিব আরো গরিব হয়েছে। এর ফলে সরকার শুল্ক সুবিধা থেকে যেমন বঞ্চিত হয়েছে, তেমনি তাঁতিরাও এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। মাঝখানে কিছু লোক দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে পুঁজি করেছে।’
তাঁতিদের উপকারে আসে এমন প্রস্তাব এ কর্মশালা থেকে এলে সরকার তা বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি।
টিসিবির পণ্য প্রদান প্রসঙ্গে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘সরকার স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে ৬৩ লাখ মানুষকে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য দিচ্ছে। এটা ক্রমান্বয়ে এক কোটিতে উন্নীত করা হবে।’ এ প্রক্রিয়ায় দেশের প্রান্তিক তাঁতিদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘পণ্যের মধ্যে উদ্ভাবন ও বৈচিত্র্য আনতে হবে। উপকরণ সঠিক দামে পেলে অর্থনৈতিকভাবে এটাকে উপযুক্ত মূল্যে বানাতে পারব।
কর্মশালায় তাঁতি সমিতির সদস্যরা জানান, কাঁচামাল সরবরাহ ও সুযোগ-সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে সরকারের তদারকি প্রয়োজন। এর মাধ্যমে আগামীতে তাঁতিদের তৈরি পণ্য আরো বেশি পরিমাণ বিদেশে রফতানি করা যাবে।
কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু আহমদ ছিদ্দীকী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আরিফুর রহমান খান, বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম জাহিদ হাসান, বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম, জেডিপিসির নির্বাহী পরিচালক জিনাত আরা প্রমুখ।